বারাণসীরাজ ব্রহ্মদত্তের সময়ে একবার কোন এক পর্ব উপলক্ষ্যে বিরাট এক মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। ভেরী বাজিয়ে এই আনন্দ উৎসবের লগ্ন ঘোষণা করার সঙ্গে-সঙ্গে যে যেখানে ছিল আনন্দ উৎসবে যোগ দিতে ছুটল।

তখন রাজার বাগানে অনেক বানর বাস করত।। বাগানের মালী ভাবল – নগরে উৎসব উপলক্ষ্যে বিরাট মেলা হচ্ছে। আমি এই বানরদের উপর গাছে জল দেয়ার ভার দিয়ে বরং একটু মেলা থেকে ঘুরে আসি।

এই ভেবে সে বানরদের দলপতির কাছে গিয়ে বলল, তোমরা তো এই বাগানের ফল-ফুল খেয়ে নানারকম সুবিধা ভোগ করছ। আজ নগরে বিরাট মেলার আয়োজন হয়েছে। আমি ঐ মেলায় যাব। যতক্ষণ আমি না ফিরি তোমরা গাছগুলোতে জল দিতে পারবে তো?

বানরদের দলপতি বলল, তা আর পারব না কেন?
মালী বলল, দেখো যেন ভুল না হয়।
এই বলে সে বানরদের কাছে জল দেবার জন্য চামড়ার আর কাঠের ঝারি দিয়ে মেলায় চলে গেল।


এরপর বানরেরা গাছে জল দেয়ার জন্য উদ্যোগ নিল। তখন বানরদের দলপতি অন্যান্য বানরদের সাবধান করে দিয়ে বলল, দেখো, বেশী জল নষ্ট কোরো না যেন। প্রথমে চারা গাছ গুলো উপড়ে উপড়ে দেখবে কোনটার শিকড় বড় আর কোনটার ছোট। যেগুলোর শিকড় বড় সেগুলোতে বেশী করে, আর যেগুলো ছোট সেগুলোতে কম করে জল দিবে।

এ তো খুবই ভালো কথা – বানররা বলল, এর চেয়ে সোজা কাজ আছে না কি! এই বলে তারা দলপতির পরামর্শ মতো কাজ শুরু করে দিল।

এই সময়ে রাজার বাগানের পাশ দিয়ে এক লোক হেঁটে যাচ্ছিল। তিনি বানরদের এই কীর্তিকলাপ দেখে বললেন, এ কি! তোমরা গাছগুলো উপড়ে ফেলছ কেন?

প্রশ্ন শুনে বানররা মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল। ভাবখানা – লোকটা কি বোকা দেখ, গাছ না তুললে তাতে কত জল লাগবে জানা যায় না-কি! ওদেরই মধ্য থেকে আরেক জন বলল, তাতে আপনার কি দরকার মশাই?

লোকটি উত্তর দিল, কোন দরকার নেই, এমনি জিজ্ঞাসা করছিলাম আর কি।

জিজ্ঞাসা করে লাভ নেই আপনার – একটি বানর খিঁচিয়ে উঠে বলল। যান, নিজের চরকায় তেল দিন গে। আমাদের দলপতি যেমনটি বলে গেছে তেমনটিই আমরা করছি। বুঝেছেন?

তা আর বুঝি নি! বলে লোকটি হাসতে হাসতে চলে গেল। মনে মনে ভাবল –

মূর্খরা এমনই হয়। তারা লোকের উপকার করতে চাইলেও অপকার করে ফেলে।

রেফারেন্স / কৈফিয়ৎ

এই গল্পটি School of Life সিরিজের অন্তর্ভুক্ত। মূলত, স্কুল অফ লাইফ সিরিজটি জীবন সম্পর্কে আমার নিজস্ব দর্শন, অনুধাবন এবং বিভিন্ন মনীষীদের রেখে যাওয়া জ্ঞানের সংকলন। “বানরের মূর্খামি” গল্পটি সম্ভবত ইশপের গল্প অথবা অন্য কোন নীতি শিক্ষা মূলক গল্পের বই থেকে নেয়া। মূল সংকলনে সংকলক “মনোয়ার রহমান হারুণ” এই ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোন রেফেরেন্স দিয়ে যান নি। তাই আমিও বলতে পারছি না, গল্পটির প্রকৃত লেখক কে। যদি কোন সহৃদয়বান পাঠক এই গল্পের মূল উৎস সম্পর্কে ধারনা পান, তবে আমাকে অবশ্যই জানাবেন। রেফারেন্স সেকশনে লেখকের নাম উল্ল্যেখ করে প্রাপ্য সন্মানটুকু নিশ্চিত করব।