[১]

ছবির এই ভদ্রলোকের নাম বিস্কুট। আমার বাড়ীতে থাকে। ওনার অনেক বন্ধু-বান্ধব আছে। প্রায় সময়ই দেখি, পাশের বাড়িতে চলে এসেছে, বন্ধুদের নিয়ে গল্প করতে।

আবার মাঝে-মাঝে, পাশের বাড়ির বন্ধুদেরকেও নিজের বাড়িতে দাওয়াত দেয়। একসাথে মোজ-মাস্তি করে। যদিও তার নিজের ভাগের খাবারেরই তেমন কোন নিশ্চয়তা নেই, তবুও পাশের বাসার বন্ধুদেরকে দাওয়াত করলে কিভাবে আপ্যায়ন-সমাদর করে, সেটা আমার জন্য বড় কৌতুহল।

 

 

[২]

একদিন বিস্কুটকে আদর করতে-করতে স্নান ঘরে নিয়ে গিয়েছিলাম। গায়ে অনেক ধুলো-বালি জমে আছে। তাই বালতি থেকে এক মগ জল  ঝুপ করে গায়ে ঢেলে দিয়েছিলাম। আর সেও ফুড়ুৎ করে দৌড় দিয়ে ভেগেছে।

বিস্কুট এত নোংরা কেন? সে স্নান করতে চায় না কেন?

[৩]

বিস্কুটের যখন ৩ মাস বয়স, তখন একদিন তার মা মারা যায়। সেদিন আমার খাটের উপর বসিয়ে রেখেছিলাম কিছুক্ষন, আর ভাবছিলাম, সে কি জানে যে আজ থেকে সে তার মা’কে কোন দিনই দেখতে পাবে না?

[৪]

প্রায় সময়ই, আমি যখন আদর করতে কাছে ডাকি, তখন সে ভোঁ দৌড় দিয়ে ভাগে। কোন ভাবেই কাছে আসে না।

আবার, যেদিন আমার মন-মেজাজ ১১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকে, সেদিন সে পায়ের কাছে ঘুর-ঘুর করে। সরিয়ে দিলেও যায় না।

একদিন মেজাজ এতই গরম ছিল যে, মাথায় তুলে আছাড় দিয়েছিলাম। পরে অবশ্য খারাপ লেগেছিলো নিজের কাছেই।

বলা হয়ে থাকে-  

‘যে পাপ করে সে সাধারণ মানুষ; যে পাপের জন্য দুঃখ, অনুতাপ করে সে সাধু ব্যক্তি …’ 

সেই হিসেবে আমার মনে হয় আমি একজন সাধু ব্যক্তি।

আসলে বিস্কুট কোনদিন আমার কথা বুঝে নি, আমিও বিস্কুটকে বুঝিনি। যার কারনে কেউ কারো প্রিয়ভাজন হতে পারিনি।

তবে, তার কাছ থেকে একটা জিনিস বুঝলাম – মানুষের সম্পর্কগুলোও অনেকসময় এমনই হয়। যখন তুমি কাউকে প্রচন্ড ভাবে চাইবে, তখন তুমি তাকে পাবে না। আর সে যখন তোমাকে চাইবে, তখন তুমি তাকে সহ্য করতে পারবে না।

এমন কেন হয় জানি না। কিন্তু হয়, বহুবার হয়েছে।

[৫]

আর ক’দিন বাদেই বিস্কুটকে ছেড়ে চলে যাব। হয়ত আর কোনদিনই দেখা হবে না।

জীবন একটা অবিরাম ভ্রমন। আর সেই ভ্রমনে কাছে আসা মানুষ গুলো, যাত্রা পথের পথিক কেবল, যাদের অনেকেই গন্তব্য পরিবর্তনের সাথে-সাথে হারিয়ে যায়। হারিয়ে যায় তাদের মুখ, হারিয়ে যায় তাদের অস্তিত্ব, ফেলে আসা পুরোনো সেই পথে।

তবে শুধু একটা জিনিসই থাকে, তার নাম স্মৃতি।

[৬]

এই বছরের শেষ নাগাদ, এপোলো হাসপাতাল এর প্রাক্তন সিইও, ডক্টর এড হ্যানসেন এর সাথে প্রায় ১৫ দিন কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার। কাজের কথা বাদেও, আমাদের কথপোকথনের অনেক বড় একটা অংশ ছিল – সুখী জীবন নিয়ে। ডক্টর এড এর কাছে আমি জানতে চেয়েছিলাম – সুখী জীবনের রহস্য।

কথা প্রসঙ্গেই তিনি বলেছিলেন – চার্লি ব্রাউন, জীবনে চলতে পথে প্রতিদিনই তুমি নতুন কিছু মানুষের সাথে মিশবে। সময়ের আবর্তনে সেই মানুষগুলো একসময় হারিয়েও যাবে। তোমরা কেউ কারো কাছে থাকবে না। কিন্তু উভয়ের কাছেই একটা জিনিস থাকবে, স্মৃতি।

খেয়াল রেখো, সেই স্মৃতিটা যেন সুন্দর হয়।