ব্যক্তিগত এবং কর্ম জীবনে প্রায়ই আমাদেরকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা একটি নিত্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা। এটা কোন ব্যাপারই না যে আপনি কি একজন ছাত্র, না-কি পেশাজীবী, নাকি একজন সাধারণ মানুষ। জীবনে চলার পথে হর-হামেশাই আপনাকে, আমাকে, আমাদের সবাইকে কোন না কোন সিদ্ধান্ত নিতেই হয়। অধিকাংশ সিদ্ধান্তই সাধারণত খুব সহজ এবং নিত্য-নৈমিত্যিক। এই যেমন – ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করবেন কি না, আজ বাজারে যাবেন কি-না, বাজারে গেলে মাছ কিনবেন কি না।

এই সিদ্ধান্তগুলো খুব সহজ। কিন্তু, মাঝে-মাঝে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয় যা খুব কঠিন। 

তাহলে, কঠিন সিদ্ধান্ত কি? 

সংজ্ঞা অনুসারে, কঠিন সিদ্ধান্ত হচ্ছে সেই সিদ্ধান্ত গুলো যাদের মধ্যেঃ

  1. উচ্চতর ঝুঁকি রয়েছে,
  2. মারাত্মক পরিণতি রয়েছে, 
  3. ছোট-বড় অসংখ্য বিষয় জড়িত, 
  4. বিষয় গুলো একটি অন্যটির সাথে পারষ্পরিক ভাবে সম্পৃক্ত,
  5. এই পারষ্পরিক সম্পর্ক গুলো অত্যন্ত জটিল, এবং
  6. সম্পৃক্ত প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে আমাদেরকে একক ভাবে কিংবা সামগ্রিক ভাবে বিচার-বিবেচনা করতে হয়।

কখনো-কখনো এইসকল জটিলতাকে মেনে নিয়েই আমাদেরকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যা করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে দেখা দেয় উদ্বেগ, বিভ্রান্তি, সন্দেহ, এবং আক্ষেপ। এতে করে কখনো আমরা পড়ে যাই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে, আবার কখনো পড়ে যাই ক্ষতির ঝুঁকিতে। নিঃসন্দেহে, এত জটিলতার চাপে কোন কিছু স্থির করা এবং একটা সিদ্ধান্ত চয়ন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। 

এমন ঘোলাটে পরিস্থিতি যতই বিলম্বিত হতে থাকে ততই বাড়তে থাকে হতাশা, আত্ম-অবিশ্বাস, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, ভ্রম, এবং অস্বস্তি। বিরূপ প্রভাব পড়ে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে, পারিবারিক জীবনে, কর্ম জীবনে এমন কি সমাজ জীবনেও। এক পর্যায়ে এই অস্বস্তি কাউকে খুব দ্রুত, কাউকে খুব ধীরে ধীরে বা কাউকে নির্বিচারে সিদ্ধান্ত নিতে পরিচালিত করে।

আবার কারো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। জটিল পরিস্থিতিতে যখন মাথা কাজ করে না, তখন এমনও কেউ আছে যারা হাতে একটি মুদ্রা (কয়েন) নিয়ে টস করে, এবং মুদ্রার এপিট-ওপিঠ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। আবার কেউ কেউ আছে, নিকটস্থ বন্ধু বা আস্থাভাজন কারো উপরে সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার ছেড়ে দিয়ে নিজে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে।

এতে কি হয়?

(হয়ত) আমাদের নেয়া সিদ্ধান্তটি ভাল হয় না। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা হয় তা হল –

সিদ্ধান্তহীনতার দোটানায় থাকতে থাকতে একটা সময় পর আমরা বুঝতে পারি যে –  অনেক দেরি হয়ে গেছে।


পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী পোষ্ট