গত দুই মাস ধরে সারা বিশ্ব সহ বাংলাদেশের জনগণের মধ্যেও নোভেল করোনা ভাইরাস সম্পর্কে একপ্রকার আতঙ্ক বিরাজ করছে।ভাইরাসটি সম্পর্কে জনমনে আগ্রহ, তথ্য এবং সম্ম্ভাব্য বিভ্রান্তিরও কমতি নেই। ভাইরসাটির উৎপত্তি মূলত চীন দেশে হলেও, বিশ্বেরঅনেক দেশেই তা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী চীন সহ সারা বিশ্বের মোট ২৬ টি দেশে এই ভাইরাসটি ছড়িয়েপড়েছে। বিশ্বব্যাপী এই পর্যন্ত ৭১,৪২৯ জন করোনাভাইরাস এ আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। চীন সহ অন্যান্য দেশের সাথেবাংলাদেশের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আছে বলে ভাইরাসটি আমাদের দেশেও ছড়াতে পারে বলে প্রবল আশংকা রয়েছে। এ ছাড়াও হাঁচি-কাশি সহ বাতাসের মাধ্যমে ছড়াতে পারে বলে আশংকাটি আর তীব্র হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘দি ল্যানসেট’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ইনফেকশাস ডিজিস’ এপ্রকাশিত বেশ কিছু গবেষণাপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনাভাইরাস এর রিপ্রোডাকশন নাম্বার প্রায় ২.২৪ থেকে ৩.৫৮। এর অর্থ – প্রতি একজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী নতুন করে প্রায় ২ থেকে ৪ জন সুস্থ্য মানুষকে আক্রান্ত (সংক্রমণ) করতে পারে।

সংক্রমণ এর এই উচ্চ হার এবং বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনবসতির কারনে, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রীতিমতজনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এই আতঙ্কটা অনেকটা এমন,  মনে হয় যেন – আজরাইল আপনার এলাকায় এসে চা খাচ্ছে । চাখাওয়া শেষেই সে আপনার সাথে আসবে দেখা করতে।

কী ভয়ংকর একটা অবস্থা। হলিউডের সিনেমার মত সবার মনে  একটাই ভয় – কখন জানি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পুরো এলাকা গোরস্তান হয়ে যায়।

কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে – এতসব দুঃসংবাদের মাঝেও একটা সুংবাদ আছে। আর সেটা হলো – করোনাভাইরাস মোটেই এতটাপ্রাণঘাতী নয়, যতটা আমরা ভাবছি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সর্বশেষ তথ্য, হিসাব ও বিশ্লেষণ অনুযায়ী, করোনা ভাইরাস এর কেইসফ্যাটালিটি রেইট প্রায় ২%। অর্থাৎ – সম্প্রতি করোনাভাইরাসে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্য থেকে কেবল মাত্র ২% মারাগিয়েছেন। বাদ-বাকী ৯৮% রোগী সুস্থ্য হয়ে ঘরে ফিরে গিয়েছেন অথবা চিকিৎসাধীন আছেন। আরো মজার বিষয় হচ্ছে – মৃত এই ২% এর মধ্যে অধিকংশ রোগীইছিলেন বৃদ্ধ, এবং ইতোমধ্যেই আরো অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত।

নিঃসন্দেহে এটা একটা ভালো খবর।

তাই, একজন তরুণ জনস্বাস্থ্যবিদ হিসেবে আমার পরামর্শ হলো – করোনাভাইরাস নিয়ে অতিরিক্ত দুঃশ্চিন্তা বাদ দিন।

আক্রান্ত হলে অবশ্যই ডাক্তারি পরামর্শ নিন, এবং পরামর্শ মেনে চলুন।

পরিশেষে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ অনুসরণ করুন।

—–

লেখক পরিচতিঃ

সজল কান্তি ঘোষ

জনস্বাস্থ্যবিদ

মাষ্টার অফ পাবলিক হেলথ

কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি, অস্ট্রেলিয়া

www.sajal-ghosh.com

sg.mkt.jnu@gmail.com

Reference: 

Deutsche Welle. 2020. “Why coronavirus fears are disproportionate compared with other health risks”. Accessed February 20, 2020. https://www.dw.com/en/why-coronavirus-fears-are-disproportionate-compared-with-other-health-risks/a-52281566

Zhao, S., Lin, Q., Ran, J., Musa, S.S., Yang, G., Wang, W., Lou, Y., Gao, D., Yang, L., He, D. and Wang, M.H., 2020. Preliminary estimation of the basic reproduction number of novel coronavirus (2019-nCoV) in China, from 2019 to 2020: A data-driven analysis in the early phase of the outbreak. International Journal of Infectious Diseases.


in categories

Support My Work

Enjoy my blog?
If you’d like to support my work, consider making a small donation! Your contribution helps keep the content coming.
Thank you!

Change Management Chronic Disease Consumer Behaviour COVID-19 Crisis Management Decision Making Diabetes Disease Management Disease Outbreak Economics Entrepreneurship Fun Growth Happiness health Healthcare Service Management Heart Disease Hospital Analytics Hospital Management Insurance Leadership Life Lesson Love Mahabharata Management Mathematics Motivation MS Windows Nursing Pandemic Patient Care Psychology Quality Management Relationship Safety Satire Service Quality Steve Jobs Strategic Intelligence Strategic Management Strategy Technology Uponishod Vocal অর্থনীতি কবিতা আবৃত্তি ব্যবস্থাপনা মহাভারত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিদ্ধান্ত

Stay current with advanced knowledge, professional skills, and industry insights. Sign up for our newsletter and never miss a thing.